ভাবুন তো—
যদি আপনি এমন এক লাক্সারি ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারেন,
যেখানে মানুষ শুধু ক্রেতা নয়, বরং আপনার নিজের ঘনিষ্ঠ সার্কেলের অংশ মনে করে?
এটাই Tory Burch-এর গল্প—
যিনি আসল গল্প বলার কৌশল, নিজের উপস্থিতি, আর স্ট্র্যাটেজিক সেলিব্রিটি কানেকশন দিয়ে গড়ে তুলেছেন “Accessible Luxury”-এর এক নতুন সংজ্ঞা।
সূচনা
২০০৪ সালে নিউ ইয়র্কের নিজের অ্যাপার্টমেন্টে এক ছোট ট্রাঙ্ক শো দিয়ে শুরু করেন Tory Burch।
তার ভিশন ছিল স্পষ্ট—
নারীদের জন্য তৈরি করা এমন পোশাক যা “beautiful, timeless, yet modern”।
কিন্তু তিনি শুধু পোশাক বিক্রি করছিলেন না—
তিনি বিক্রি করছিলেন এক জীবনধারা—
যেখানে American sportswear-এর সহজতা আর bohemian স্টাইলের এলিগেন্স সুন্দরভাবে মিলেছে।
তার জিনিয়াস ছিল মার্কেটিংয়ে—
যেখানে ব্র্যান্ডিং লাগছিল না কোনো কর্পোরেট বিজ্ঞাপনের মতো,
বরং যেন তিনি আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন তার নিজের সাজানো পৃথিবীতে।
তাদের সাফল্যের সূত্র: “Relatable Aspiration” অ্যালগরিদম
Tory Burch-এর সাফল্যের মূল রহস্য বোঝা যায় এক সূত্রে—
যাকে বলা যায় “Relatable Aspiration Algorithm”।
অর্থাৎ এমন এক ভারসাম্য,
যেখানে স্বপ্নের মতো ফ্যাশনও আছে, আবার বাস্তবের ছোঁয়াও।
আইকনিক প্রোডাক্ট: “সোশ্যাল কারেন্সি” হিসেবে
লোগো-ওয়ার ফ্যাশন যখন তুঙ্গে,
Tory Burch নিয়ে এলেন সূক্ষ্ম, রুচিসম্মত ব্র্যান্ডিংয়ের কৌশল।
তার তৈরি Reva ballet flat—সোনালী বৃত্তাকার বকলসহ সেই বিখ্যাত জুতো—
একটা সময় হয়ে উঠেছিল আধুনিক, সফল নারীর পরিচয়ের প্রতীক।
এটা যথেষ্ট দামী যাতে লাক্সারি লাগে,
আবার যথেষ্ট সাশ্রয়ী যাতে অনেকেই সেটি “স্প্লার্জ” হিসেবে নিতে পারে।
এরপর আসে “Kira” ব্যাগ, “Lee Radziwill” হ্যান্ডব্যাগ—
সবগুলোতেই একই স্টাইল কোড:
স্মার্ট, ক্লাসিক, কিন্তু সাথে একটুখানি ‘I know you know’ ভাইব।
ফাউন্ডার নিজেই ব্র্যান্ডের মিউজ
Tory Burch এমন এক সময়েই নিজের গল্প সামনে এনেছিলেন,
যখন সিইওদের “পারসোনাল ব্র্যান্ডিং” শব্দটাই তেমন প্রচলিত ছিল না।
তিনি নিজেই তার ব্র্যান্ডের মুখ—
অ্যাক্সেসিবল, পলিশড, সবসময় হাসিমুখে।
নারীরা তার পোশাক যেমন ভালোবাসত,
তেমনি তার জীবনধারার প্রতিচ্ছবিকেও ভালোবাসত।
তার Tory Burch Foundation-এর মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কাজ করা
তাকে শুধু ফ্যাশন ডিজাইনার নয়, বরং রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
সেলিব্রিটি ও ডিজিটাল গল্প বলার কৌশল
Tory Burch প্রথম থেকেই বুঝেছিলেন, গল্পের শক্তি কতটা।
তার বড় ব্রেক আসে যখন Oprah Winfrey তার ব্র্যান্ডকে ফিচার করেন—
ফলাফল: ওয়েবসাইট ক্র্যাশ!
এরপর থেকে তিনি গড়ে তোলেন এক বুদ্ধিদীপ্ত সেলিব্রিটি নেটওয়ার্ক—
Reese Witherspoon, ফ্যাশন আইকন, এমনকি মম ব্লগার পর্যন্ত—
সবাইকে জুড়ে ফেলেন তার ব্র্যান্ডের গল্পে।
তার সোশ্যাল মিডিয়া ভিজ্যুয়ালস—
সূর্যালোক ছাওয়া ব্যাকইয়ার্ড, প্রেপি-বোহেমিয়ান ডিটেইল,
আর সেই একটুখানি “American Ease”—
যা মিলিয়ন নারীর মনে #ToryBurchLife কে এক রোমান্টিক স্বপ্নে পরিণত করেছে।
ফলাফল
এই “Relatable Aspiration” কৌশলই
Tory Burch-কে ছোট এক অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তুলে এনেছে
এক $3.5 বিলিয়ন ডলারের গ্লোবাল পাওয়ারহাউস-এ।
আজ তাদের ৩০০টির বেশি স্টোর, ৫০টিরও বেশি দেশে উপস্থিতি,
আর অসংখ্য বিশ্বস্ত গ্রাহক।
তারা প্রমাণ করেছে—
আধুনিক লাক্সারি মানে এক্সক্লুসিভিটি নয়, বরং ইনক্লুসিভিটি।
একটা এমন সুন্দর, উষ্ণ পৃথিবী তৈরি করা
যেখানে সবাই যোগ দিতে চায়।
শেষ কথা:
কোন ব্র্যান্ড আপনাকে এমন অনুভব দেয়—
যে আপনি শুধু গ্রাহক নন, বরং সেই ব্র্যান্ডের গল্পের অংশ?
কমেন্টে জানাবেন

Post a Comment